তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় আন্তর্জাতিক নারী দিবসে অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন, নারী ও কণ্যার উন্নয়নের উপর গুরুত্ব দিয়ে যখন সারা বিশ্বে তথা সারাদেশে আলোচনা সভার পাশাপাশি সাধারন ছুটি সহ নানাবিধ কার্যক্রম চলমান । ঠিক তখনিই উপজেলা চত্বরে একদল নারী শ্রমিক কাজ করেই চলছে। এই নারী শ্রমিকরা তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রকৌশলীর অধিনে ২ বছর মেয়াদে আউটসোর্সিং হিসাবে কাজ করছে। আজ নারী দিবস উপলক্ষেও তাদের ভাগ্যে নেই সাধারণ ছুটিও।
সকালে সুপারভাইজার ফারুক হোসেন উপজেলা চত্বরে নারী শ্রমিকদের কাজে লাগিয়ে যান। অথচ উপজেলা চত্বরের হলরুমে ১৫/২০ গজের মধ্যে চলছে নারী দিবসের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা সভা। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নারী প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে নারীর ক্ষমতায়নের উপর গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করছেন ।
নারী দিবসের সংবাদ সংগ্রহের করতে গিয়ে দেখা মিলে এমন বৈষম্যের। কাজ করতে থাকা নারী শ্রমিক দলটির সদস্য আমেনা খাতুন বলেন আমরা দৈনিক হাজিরা ৩০০ টাকা পাই। এর মধ্যে ২০০ টাকা নগদ আর ১০০ টাকা সঞ্চয় হিসেবে জমা রাখে। সকাল ৯ টা হতে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়।
বিশ্ব নারী দিবস অথচ আমাদের ছুটি দেয়নি সুপারভাইজার । সকালে উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান, সাভের্য়ার জয়নাল আবেদীন, ও সুপারভাইজার ফারুক হোসেন আমাদের কাজ দেখিয়ে ফিল্ডে চলে যান।
নারী শ্রমিক শোনাবানু বলেন এর আগের ইউএনও স্যার আমাদের রাত ১১ টা পর্যন্ত কাজ করিয়ে নিয়েছে কিন্তু কোন অভার টাইমের টাকা দেয়নি। এভাবে মাত্র ৩০০ টাকা হাজিরা দিয়েই প্রায় ২ মাস ডাকবাংলো সহ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় আমাদের কাজ করতে হয়েছে। আগের ইউএনও স্যার আমাদের খুব কষ্ট দিয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান বলেন আজকে তো নারী শ্রমিকদের ছুটি দেয়ার কথা, কোন সুপারভাইজার হয়ত তাদেরকে কাজে ধরিয়ে দিয়েছেন। আমি ওখানে যাইনি । আমি দেখতেছি বিষয়টা ।
সাভের্য়ার জয়নাল আবেদীন বলেন আজ তো সরকারী ছুটি না। সরকারী ছুটি ছাড়া নারী শ্রমিকদের ছুটি দেয়া হয় না । তাই আমরা কাজে লাগিয়ে দিয়েছি।
সুপারভাইজার ফারুক হোসেন বলেন আমাকে কোন নিদের্শনা দেয়া হয়নি তাই নারী শ্রমিকদের ছুটি দেয়া হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, বিষয়টি মানবিক জায়গা থেকে সত্যিই বৈষম্যের । নারী দিবসের প্রতিপাদ্য উপজেলার সকল দপ্তরে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে মানবিক বাংলাদেশ গঠনে আরও সচেতন হবার জন্য উপজেলা প্রকৌশলী অফিসকে জানানো হবে। তাদের উচিত ছিল আজকে নারী শ্রমিকদের সাধারণ ছুটি দিয়ে আয়োজিত সেমিনারে তাদের অংশগ্রহন করানো। এতে নারী শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ে সচেতন হতে পারতো।
এ ইসলাম /টাঙ্গন টাইমস
https://slotbet.online/